শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

নাসিক নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে -রিজভী আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরশনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি হল রুমে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমানের ৫২তম জন্ম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি করেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, খালেদা ইয়াসমিন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, কৃষক দলের নেতা শাহজাহান স¤à§à¦°à¦¾à¦Ÿ, বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন, সহিদুল ইসলাম পল্টু, কাজী মনিরুজ্জামান, ইসমাইল তালুকদার খোকন প্রমুখ।

রিজভী বলেন, নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবশ্যই সেনা মোতায়েন চাই। সেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং তাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করা প্রয়োজন। কারণ ওইটার এমনিতেই পরিচয় হয়েছে গডফাদারদের শহর।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে সাধারণ মানুষরা যদি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ পায় তাহলে তাদের পছন্দমতো লোককে তারা ভোট দেবে, গডফাদারকে ভোট দেবে না। সুষ্ঠু, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের আমি জোর দাবি জানাচ্ছি।

এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে মেয়র পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাখাওয়াতকে এ নির্বাচনে লড়তে হবে বর্তমান মেয়র ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে।

নারায়ণগঞ্জে গত নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের দাবি তুলেছিল বিএনপি। শুরুর দিকে সীমিতভাবে সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইংগিত দেয়া হলেও পরে তা করা হয়নি। ওই নির্বাচন বর্জনের ক্ষেত্রে বিএনপি সেনা মোতায়েন না করাকে অন্যতম যুক্তি হিসেবে হাজির করেছিল। 

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নের নিন্দা জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাশ্বর্বতী দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চলছে। আপনি  à¦ªà§à¦°à¦§à¦¾à¦¨à¦®à¦¨à§à¦¤à§à¦°à§€, আপনি বসে আছেন। আপনি একটি কথাও বলেন না।

জাতিসংঘ বলেছেন, যারা নিরাপত্তার জন্য এখানে আসতে চায়, সীমান্তটা খুলে দিন। আপনি সেটাও করেন নাই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব ছিল- আজকে যারা সেখানে গণহত্যার শিকার হচ্ছে সেখান থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসছেন, তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়া।

বাংলাদেশ একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ, যেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সর্বত্র পাঁচবার আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একেবারে আপনার বাড়ির সাথে লাগানো একটি জায়গা কী নির্মমভাবে, কী নিষ্ঠুরভাবে পরিবারের পর পরিবার গণহত্যার শিকার হচ্ছে, তার বিষয়ে আপনার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আমরা সরকারের এই নির্বিকার ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যের জবাবে বলেন, সারস্বত্তাহীন, শিষ্টাচারবর্জিত, অশোভন এবং নিজ প্রভুকে হাস্যকরভাবে খুশী করার বয়ান ছাড়া আর কিছু নয়। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, শক্তিশালী ও প্রভাবমুক্ত হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ইনু সাহেবরা ধরাশায়ী হবেন বলেই বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে তারা ক্ষোভ ফেটে পড়েছে। কারণ অবাধ, স্বচ্ছ এবং সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ইউপি মেম্বার পদেও জিততে পারবেন কিনা এ নিয়ে তার এলাকাবাসী সন্দেহ পোষণ করে। ইতোপূর্বে তিনি যতো নির্বাচন করেছেন সবগুলোতেই তার ভরাডুবি হয়েছে এবং জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, রক্তপাতহীন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাব সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের আপামর জনসাধারণ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ বেগম জিয়ার প্রস্তাবকে যুগোপযোগী হিসেবেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশী-বিদেশী সকল নির্বাচন পর্যবেক্ষক মহল বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য দাবি তুলেছেন। আমি তথ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বেগম জিয়ার প্রস্তাব যদি জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করা হয় তাহলে কী ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ দেশী-বিদেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করার জন্যই শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের দাবি তুলছেন?

খায়রুল কবির খোকন বলেন, এই সরকার আবারও রকিব মার্কা নির্বাচন করতে চায়। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০টির বেশি আসন পাবে না। আর এ কারণেই তারা খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের সমালোচনা করছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়। আর এ কারণেই তারা আবারও একটি রকিব মার্কা নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে। দাবি আদায়ে আমাদের আবারও রাজপথে নামতে হবে। আন্দোলনের জন্য বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে।

আবু নাসের রহমতুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ তিনজনকে ভয় পায়। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে। জিয়াউর রহমানের তুলনায় বঙ্গবন্ধু অনেক ব্যর্থ। তিনি সার্ক গঠন করেছিলেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়া কোনো দিন কোনো নির্বাচনে ফেল করেনি। আর শেখ হাসিনা অনেক নির্বাচনেই ফেল করেছেন। একইভাবে জয় কোনো দিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আর এ কারণেই তারেক রহমানের বিরোধীতা করে থাকেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ